Sunday 11th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারবে ভারত***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

সিলেটে বহুতল ভবন প্রায় ২শ’, ‘ছাড়পত্র’ নেই একটিরও

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২০.০৪.২০১৬

সিলেট নগরী ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গড়ে ওঠছে বহুতল ভবন।

ইতোমধ্যে শুধু সিলেট নগরীতে নির্মিত হয়েছে প্রায় ২শ’ অট্টালিকা।বাসা-বাড়ি, বিপনী বিতান, আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন ধরণের এসব বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলেও তার একটিরই নেই ‘চূড়ান্ত ছাড়পত্র’। ফলে ভবনগুলো কতটা ঝুকিমুক্ত সে বিষয়টি যেমন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা রয়ে গেছে, তেমনি সেগুলোর ব্যবহার উপযোগিতা নিয়ে কোনো ধারণা নেই ব্যবহারকারীদের।সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সিলেট মহানগরী ও এর আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। বিশেষ করে সিলেট নগরীতে গত এক দশকে যেন বহুতল ভবন নির্মাণে অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলছে। তবে বিভিন্ন নকশায় নির্মিত সুরম্য এসব ভবন নির্মাণকাল ও পরবর্তী সময়ে যথাযথা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় সিলেট নগরীর বুকে প্রায় ২শ’ বহুতল ভবন গড়ে উঠলেও সেগুলোর একটিরও নেই ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের চূড়ান্ত ছাড়পত্র। সুউচ্চ ভবনগুলো নির্মাণে শুধু নগর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে সেগুলো নির্মাণকালে নকশা পর্যন্ত যথাযথভাবে মানা হয়নি। কোনো কোনো ভবনের আবার অনুমতি নেওয়া হয়েছে দ্বিতল পর্যন্ত। কিন্ত সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ৫ তলা কিংবা আরো বেশি তলা বিশিষ্ট ভবন। ফলে এসব ভবন ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আর ভবনগুলোতে লোকজন বসবাসও করেন ঝুকি নিয়ে। ভূমিকম্প হলে কোনো কোনো ভবনে দেখা দেয় ফাটল কিংবা দেয়াল ধ্বস। সিসিক সূত্রে জানা যায়, বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হলেও নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হয় না অধিকাংশেরই। তাছাড়া মহানগরীর অধিকাংশ ভবন নির্মিত হয়েছে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করেই। সয়েল টেস্ট ছাড়া এসব ভবন নির্মাণের কারণে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, সিলেট নগরীতে গড়ে ওঠা প্রায় ২শ’ বহুতল ভবনের একটিরও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের চূড়ান্ত ছাড়পত্র নেই। আর ছাড়পত্রহীন এসব ভবনগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযানের হুমকি দেওয়া হলেও তা সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেট অফিস সূত্রে জানা যায়, দ্বিতল বা তার চেয়ে বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়। দুর্যোগ দেখা দিলে নিরাপদে বের হওয়ার জন্য প্রতিটি ভবনে জরুরি বর্হিগমন রাস্তা, অগ্নিনির্বাপণের জন্য পানি, ড্রাই পাউডার ও ফায়ার এক্সটিনগুসারের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। তাছাড়া ৫ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের একতলা ভবনের ক্ষেত্রেও ফায়ার সার্ভিসের এ নীতিমালা প্রযোজ্য। কিন্তু সিলেটে গড়ে ওঠা আকাশচুম্বী ভবনগুলোর নির্মাতা ও মালিকা তা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। এব্যাপারে আলাপকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. শহিদুর রহমান বলেন, প্রতিটি বহুতল ভবনে ‘সেফটি প্ল্যান’ থাকা আবশ্যক। সিটি করপোরেশন থেকে নকশা অনুমোদনের আগে ভবন মালিককে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু তা অনুসরণ করা হয়নি। সিলেট ফায়ার সার্ভিসের কাছে নগরীর প্রায় ২শ’ বহুতল ভবনের তালিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ভবনের প্রায় অর্ধেকই নির্মাণ হয়েছে ফায়ার সার্ভিস’র প্রাথমিক অনুমোদন না নিয়ে। আর নগরীর প্রায় সব ভবনের ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে জানান শহিদুর রহমান।