Print

মধুবন ও রাজা ম্যানশনসহ নগরীর ৩২ ভবনে বুলডোজার চালাবে সিসিক

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ২৪.০৪.২০১৬ 

সিলেট নগরীর ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ভবনের বিরুদ্ধে এবার ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’-এ নেমেছে সিলেট সিটি করেপোরেশন (সিসিক)।

তাঁতীপাড়ার ৯নং বাসাটি ভাঙার মধ্যদিয়ে নগরীতে শুরুও হয়েছে সিসিকের ‘ঝুঁকি কমানোর যাত্রা’।  তবে সিসিকের এ কাজকে অনেকে স্বাগত জানালেও ভবন মালিকরা আছেন দুশ্চিন্তায়। ঝুঁকি স্বত্ত্বেও তারা চান না বুলডোজার আঘাত হানুক তাদের ভবনে। ভবনগুলো রক্ষা করতে তারা দৌঁড়ঝাপও শুরু করেছেন। কেউ কেউ ভবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন আইনী প্রক্রিয়ায়। তবে সিসিক কর্তৃপক্ষ রয়েছে হার্ডলাইনে। জানমালের নিরাপত্তার এ বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নয়-এমনটিই জানাগেছে নগরভবন সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় রয়েছে নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, শেখঘাট, শাহী ঈদগাহ, ভাতালিয়া, ভার্থখলা, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ৩২টি ভবন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাঁতীপাড়ার ৯নং বাসা ভাঙার পর শাহী ঈদগাহের অনামিকা ৭০/এ ৪তলা ভবন ভাঙার কাজে হাত দেবে সিসিক। পর্যায়ক্রমে প্রতিসপ্তাহে বুলডোজারে মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরিচালিত জরিপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তৈরিকৃত তালিকায় রয়েছে অনেক বাসা-বাড়ি, বিপনীবিতান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। তালিকাতে থাকা বিপনীবিতানগুলো হচ্ছে- নগরীর জিন্দাবাজারস্থ রাজা ম্যানশন, বন্দরবাজারস্থ মধুবন সুপার মার্কেট, সুরমা মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি বিপনীবিতানও। সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা অন্যান্য ভবন হলো- কালেক্টরেট ভবন-৩, সমবায় ভবন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিস ভবন, সিলেট জেলা এসএ রেকর্ড অফিস, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কারিগরী ইনস্টিটিউট, সিলেট সরকারী অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, মদিনা মার্কেট এলাকার কিছু বাসা-বাড়ি, আজমীর হোটেল, মাহমুদ কমপ্লেক্স এর পিছনের বাসা, সিটি সুপার মার্কেট বন্দরবাজার, জিন্দাবাজারের রহমান প্লাজা, মিতালী ম্যানশন, সিলেট মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, শেখঘাটের পুরাতন পাসপোর্ট অফিসের সাথের বাসা, সিলেট মদন মোহন কলেজের নবনির্মিত ভবন, পূর্ব শাহী ঈদগাহের খান কুঞ্জ, কালাশীল এলাকার মান্নান ভিউ, শুভেচ্ছা-২২৬ শেখঘাট, চৌকিদেখীর সরকার ভবন, যতরপুরের নবপুষ্প ২৬/এ নম্বর বাড়ি, ভাতালিয়ার ১১৮ নম্বর বাসার সীমানা দেয়াল, পুরান লেনের কিবরিয়া লজ, ভার্থখলার বাবর ট্রাভেলস ও খার পাড়া মিতালী আবাসিক এলাকার ৭৪ নম্বর বাড়ি।

সিসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব বলেছেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এসব ভবন ভাঙার ব্যয়ভার ভবন মালিক তথা কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানিয়েছেন, নগরভবন থেকে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকাতে ৩২টি ভবনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনা করে প্রতি সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে এসব ভবন ভেঙে ফেলা হবে।বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকাতে থাকা একাধিক ভবনের মালিক ও তত্ত্বাবধায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তালিকাতে থাকা সব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাদের দাবি তালিকা আরো যাচাই-বাচাই করা উচিত। তাদের অনেকেই আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবেলার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।