Sunday 4th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ‘বঙ্গবন্ধু’কে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

কেমন আছেন চৌহমুনার শ্রমজীবী মানুষ?

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০২.০৫.২০১৬

মৌলভীবাজার চৌমুহনায় শ্রমিক হাটে গিয়ে দেখা যায়, কাজ পাওয়ার অপেক্ষায় ওখানে দাঁড়িয়ে প্রহর গুণছেন তারা।

মে দিবসের কথা সারাদেশে শতমুখে প্রচারিত হলেও এ দিবস সম্পর্কে কিছুই জানেন না এসব শ্রমিক।বয়সে কেউ কিশোর, কেউ যুবক আবার কেউ বৃদ্ধ। কেউ শ্রমিকের খোঁজে এলে সবাই মিলে ঘিরে ধরছেন তাকে। দিনভর অপেক্ষা করে কাজ না পেয়েই বাড়ি ফিরেছেন অনেকে। এটাই চৌমুহনা শ্রমিক হাটের নিত্যদিনের ঘটনা।চৌমুহনার শ্রমিকহাটে এভাবেই জড়ো হন শ্রমিকরা।শ্রমিকরা জানান, এখন বৈশাখ মাস হওয়ায় প্রতিদিন কাজ পাওয়া যায়।আবার ২/১ মাস পরে আর নিয়মিত কাজ মেলে না। মাসে দশ থেকে বারো দিন বেকার থাকতে হয়। এ সময় স্বাভাবিক জীবন যাপনে খুব কষ্ট হয়।চাঁদনীঘাট এলাকার দিনমজুর জবেদ আলীর (৫৫) বলেন, বাপু ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দিনমজুরের কাজ করে আসছি।বর্তমানে দ্রব্য মূল্যের দাম যে হারে বাড়ছে, সে হারে শ্রমিকদের মজুরি না বাড়ায় সীমিত আয় দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করা অনেক কষ্টকর।

তিনি আরও বলেন, আমার জীবনে দরিদ্রতার করণে এক ছেলে ও তিন মেয়েকে শিক্ষার আলোর মুখ দেখাতে পারিনি। তারাও এখন দিনমজুর।ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাছির নগর উপজেলর ফয়েজ আলী বলেন, ২৫০/৩০০ টাকা মজুরি দিয়ে পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব না। আবার অনেক জায়গায় ১২/১৪ ঘন্টা কাজ করানোর পর মজুরি না দিয়ে বিদায় করে দেয়। চৌমুহনার তাজ হোটেলের শ্রমিক সজল জানান, নির্ধারিত মজুরি, টিউটি ও সাপ্তাহিক ছুটি না থাকায় সারা মাস কাজ করতে হয়।রিক্সা শ্রমিক সয়ফুল ইসলাম বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে ২০০/২৫০টাকা পাই। এটা দিয়ে পরিবার ও ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়।নারী শ্রমিক নীলা কর জানান, সারাদিন কাজ করে ১২০ টাকা পাই। তা দিয়ে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়।পরিবহন শ্রমিক শামীম আহমদ বলেন, ট্রাফিক পুলিশ আর  কমিটিকে অতিরিক্ত চাঁদা না দিলে আরও উন্নতি করতে পারতাম। হাকালুকি হাওরপারের কৃষক ছমির আলী বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে যে পরিমাণে খরচ হয় সে হারে ধানের দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক কৃষক এখন আর ফসল ফলাতে আগ্রহী নন।তিনি আরও বলেন, আমিও কৃষি কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার কথা ভাবছি।অভাবের তাড়নায় হতাশা আর সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকা এই বিপুল জনগোষ্ঠী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে স্বপ্ন দেখেন।