Print

৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৬.০৫.২০১৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বোবারথল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই মাস ধরে ৫০০ শিক্ষার্থীকে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র এক জন শিক্ষক।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে সেখানে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল বিমুখ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরে ৯ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও ৩ জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক বছর আগে তিন শিক্ষকের একজন নিজ জেলায় বদলি হলে শিক্ষক সংকট আরও তীব্র হয়।গত ৭ মার্চ বাকি দুই শিক্ষকের মধ্যে এক শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনও নিজ জেলা নেত্রকোনায় বদলি হন। এতে বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষকে পরিণত হন। তাকে একাই ৯ জন শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

আব্দুস শাকুর খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্কুলের ৫০০ শিক্ষার্থীকে তিনি একাই পড়ান। উপজেলা সদর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের এ স্কুল থেকে সপ্তাহে দুদিন সমন্বয় সভাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কাজে তাকে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। কোনও শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে তখন স্কুল ছুটি ঘোষণা করতে হয়।তিনি আরও জানান, সকালের শিফটের প্রাক-প্রাথমিকসহ তিনটি ক্লাস রয়েছে। এক ক্লাসে গেলে ফাঁকা দুই ক্লাসের শিক্ষার্থীর বিশৃঙ্খলা শুরু করে। তখন তাদের পাঠদান তো দূরের কথা নিয়ন্ত্রণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় শিফটেও ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির তিনটি ক্লাসের একটিতে গেলে অন্য দুই ক্লাস ফাঁকা থাকে। ক্লাস ভালোভাবে না হওয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা ক্রমশ স্কুল বিমুখ হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, বোবারথল এলাকায় এমনও স্কুল রয়েছে, যেখানে ছাত্র সংখ্যা ১০০-র কম অথচ শিক্ষক সংখ্যা ৫ জনের বেশি। সেসব স্কুল থেকে ডেপুটেশনে শিক্ষক পদায়ন করে এ স্কুলের পাঠদান চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। এছাড়া সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন অনেকই এলাকায় রয়েছে। কিন্তু তাদের চাকরি হচ্ছে না।এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার অরবিন্দ কর্মকার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বোবারথল স্কুলে শিক্ষক সংকট নিরসনে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।