Sunday 11th of December 2016

সদ্য প্রাপ্তঃ

***চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারবে ভারত***

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

UCB Debit Credit Card

২০১৭ সালের মধ্যে কাজ শুরু হবে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনের কাজ

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৭.০৫.২০১৬

দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে লাতুর ট্রেন।

ফলে কয়েক হাজার যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। আর দীর্ঘদিন থেকে অরক্ষিত থাকায় বেহাত হচ্ছে রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এ নিয়ে আন্দোলনও কম হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও বন্ধ রেলপথ চালুর জন্য একাধিকবার দাবি তুলেছেন সংসদে।  তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রেলপথটি চালুর ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। বার বার চালুর ব্যাপারে উদ্যোগী হয় সরকার। আশান্বিত হন স্থানীয় উপকারভোগী লোকজনও। কিন্তু কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর এই উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রশ্ন জাগে, এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ‘লাতুর ট্রেন’  ফের চালু হবে কি! স্থানীয় বাসিন্দারা জানান- এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ চালুর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে একনেকের বৈঠকে ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা অনুমোদন পায়। এমন খবরে  মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষ নিশ্চিত হয়ে ওঠে। আনন্দ মিছিল করেন বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়ার মানুষ। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের আনন্দ ফিকে হতে থাকে। একনেকে বিল পাস হওয়ার প্রায় ১১ মাস অতিবাহিত হলেও বন্ধ রেলপথটি চালুর ব্যাপারে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেই। অন্যদিকে অরক্ষিত এই রেলপথটির ভূসম্পত্তি ও নানা জিনিসপত্রসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ হরিলুট হয়ে যাচ্ছে-এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। সূত্র জানায়- কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত ৪২ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে চলাচলকারী ট্রেনের নাম ছিল ‘লাতুর ট্রেন’। একসময় এ রেলপথ দিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ পর্যন্ত মালামাল বহন করা হতো। এ রেললাইনে শাহবাজপুর, মুড়াউল, বড়লেখা, কাঁঠালতলী, দক্ষিণভাগ, জুড়ী ও কুলাউড়া স্টেশন ছিল। এ স্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে সরব ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যও।  ১৮৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর ট্রেনর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এই পথ। সে সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্ত:দেশীয় ট্রাফিক চলাচলে এ সেকশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তীতে ১৯৫৮-১৯৬০ সালের পূর্বে ব্যবহৃত (সেকেণ্ড হ্যান্ড) ৬০ পাউন্ড রেল, কাঠের ও স্টিলের স্লিপার দিয়ে ওই সেকশনের  রেলপথ পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু সময়ের আবর্তে ব্যবহারঅযোগ্য স্লিপারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপর্যাপ্ত ব্যালাস্টের কারণে সেকশনটি ইঞ্জিন ও রেলগাড়ির ভার বহনে অক্ষম হয়ে পড়ে। সে সময় ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নামিয়ে আনা হয়। তারপরও ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনা, কাঠের স্লিপার, সেতুসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংস্কারের অভাব, লোকসান এবং ১৮৯৬ সালে নির্মিত স্টেশন ভবনগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়াসহ নানা কারণ দেখিয়ে ২০০২ সালের ৭ জুলাই সরকার ট্রেনটি বন্ধ করে দেয়। ফলে স্থানীয় ২টি  জেলার ৪টি উপজেলার প্রায় ১০ লাখ উপকারভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ পড়েন চরম বিপাকে। অপরদিকে, দীর্ঘদিন থেকে অরক্ষিত থাকায় বেহাত হয়ে যায় রেলওয়ের ভূমি ও রেলপাত, ক্লিপ, নাট-বল্টু, পাথরসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এরপর রেলপথটির সংস্কারসহ ট্রেন চলাচল চালুর দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। ২০০৯ সালে স্থানীয়দের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। তখন ট্রেনটি চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রেলওয়ে বিভাগ আন্তরিক হয় এবং তা চালুর সম্ভাব্যতা নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উদ্যোগী হয়। ভারতীয় পরামর্শক দল ইরকনের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে ইতিবাচক পরামর্শ পাওয়ায় ট্রেন চালুর সম্ভাবনা দেখা দেয়। স্থানীয় দুইজন সংসদ সদস্য রেলপথটি চালুর বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করেন। যোগাযোগমন্ত্রীও তাদেরকে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু এরপর থেমে যায় এর কার্যক্রম।

২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেললাইন চালুর ঘোষণা  দেন। গত বছরের ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকে রেললাইন চালুর জন্য ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার অনুমোদনও দেয়া হয়। রেলওয়ে সূত্র জানায়- এ প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রম ছিলো কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনের ৪২ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্বাসন। এর মধ্যে ৩৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার রুট-লাইন এবং ৩ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার লুপ-লাইন রয়েছে। ৬টি স্টেশন ভবন পুনঃনির্মাণ, ২০টি সেতু মেরামত অথবা পুনঃনির্মাণ এবং ১৩টি সেতু নির্মাণ। এছাড়া রেলক্রসিং নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণ, ৪টি বি ক্লাস  স্টেশন, নন-ইন্টারলকড কালার লাইট সিগন্যাল সিস্টেম এবং আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য আনুষাঙ্গিক যন্ত্র ও যন্ত্রাংশগুলোও আধুনিকায়ন করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের রেলপথ বিভাগের একটি সূত্র জানায়- এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এসকাপ কর্তৃক ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। বাংলদেশ সরকার ও ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নিয়েছিলো সরকার। রেলওয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়- এ রকম সাতটি প্রকল্পের মধ্যে ৪টির ঋণও অনুমোদন দিয়েছে এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। যে ৩টির ঋণের অনুমোদন হয়নি এর মধ্যে রয়েছে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ উন্নয়নের এই প্রকল্পটি। তবে প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই এই ঋণটি অনুমোদন পেলে কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হবে। আর শর্তসাপেক্ষে এই কাজ করবে ইন্ডিয়ান একটি  কোম্পানী। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে- ২০১৭ সালের মধ্যসময়ে এই প্রকল্পটির কাজ শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার হরিপদ সরকার জানান- এই প্রকল্পের কাজ কবে চালু হবে-এ বিষয়ে আমাদের জানা নাই। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতো আমরাও আশাবাদী, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফের চালু হবে লাতুর ট্রেন।  কবে বাজবে লাতুর ট্রেনের হুইসেল? এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপি জানান- দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন। সব আনুষ্ঠানিকতাও শেষ পর্যায়ে। খুব শীঘ্রই কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।