Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২১.০২.২০১৯

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণের সমস্যায় জর্জরিত। বর্তমানে মোট ঋণের ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশই খেলাপি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিদ্যমান খেলাপি ঋণের কারণে সুদহার বাড়ছে গড়ে ১ শতাংশ। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি বছরে সংগঠনটির বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দেশের ব্যবসা খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সম্মেলনে কথা বলেন ডিসিসিআই নেতারা। সংগঠনের সভাপতি ওসামা তাসীরসহ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সহসভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আশরাফ আহমেদ, দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, কেএমএন মঞ্জুরুল হক, ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, মো. রাশেদুল করিম মুন্না ও এসএম জিল্লুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ডিসিসিআই সভাপতি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, টেকসই নগরায়ণ, রফতানি খাতের বৈচিত্র্য, তৈরি পোশাক, কর ও মূসক, ব্যাংকিং খাত, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ হার বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। মোট খেলাপি ঋণের ৪৪ শতাংশই শিল্পঋণ হিসেবে বিতরণকৃত, যা ঋণের মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, ব্যাংকগুলো যেন সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি ও সরকারের নীতিসহায়তার মাধ্যমে মূলধন ব্যয় কমানোর দাবি জানাচ্ছি আমরা, যেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে এক অংকে ব্যাংকঋণ পাওয়া সহজ হয়। ব্যাংকিং খাতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা যেতে পারে। এছাড়া বৃহৎ ঋণগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওসামা তাসীর বলেন, আমি মনে করি, সুদের হার কমাতে না পারার পেছনে ব্যাংকগুলো নন-পারফর্মিং লোনকেই কারণ হিসেবে দাঁড় করাবে। নতুন ব্যাংকের অনুমোদনের বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, নতুন ব্যাংক আসায় ভালো হবে, না খারাপ হবে, সময়ই তা বলে দেবে। নতুন ব্যাংকগুলো একদিকে যেমন প্রতিযোগিতা বাড়াবে, তেমনি সেবার মানও উন্নত করায় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার ক্ষেত্রে কন্ট্রাক্ট এনফোর্সিংয়ের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উদাসীনতা রয়েছে। ওসামা তাসীর গ্যাসের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে ডিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতের নন-পরফর্মিং লোন উদ্বেগজনক একটি ইস্যু। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের ঋণের পরিমাণ কমানোর জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।

নন-পারফর্মিং লোন আদায় করে কমানো, নাকি রাইট-অফ করে কমানো উচিত, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমি মনে করি আদায় করেই কমানো উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে ভ্যাট প্রসঙ্গে ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, দেশে আট লাখ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে। কিন্তু ভ্যাট প্রদান করে মাত্র ৩৭ হাজার প্রতিষ্ঠান। তিনি তার প্রেজেন্টেশনে বহু স্তরবিশিষ্ট ভ্যাট হার নির্ধারণের বিষয়টি উল্লেখ করেন।