Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২২.০২.২০১৯

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব আহরণ হয়েছে প্রায় ৫৯৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

এ সময়ে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩৪ কোটি ১ লাখ টাকা। অর্থাৎ সাত মাসে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়ে গেছে ৩৬ কোটি ১২ লাখ টাকার বেশি।

তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আহরণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব এসেছিল ৪৬৫ কোটি ৪২ লাখ টাকার। এ হিসাবে জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে রাজস্ব আহরণ বছরওয়ারি বেড়েছে প্রায় ১৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সাত মাসের মধ্যে চার মাসই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ সম্ভব হয়নি। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। বিপরীতে রাজস্ব আসে ৪৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকার। ফলে অর্থবছরের প্রথম মাসেই ঘাটতি রয়ে যায় ১৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। দ্বিতীয় মাস আগস্টে ৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ৬০ কোটি ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকার রাজস্ব। এছাড়া ঘাটতি ছিল নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও। এ দুটি মাসে যথাক্রমে ১১১ কোটি ৫ লাখ ও ১১৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয় যথাক্রমে ১০৮ কোটি ২৮ লাখ ও ৬৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব এসেছে তিন মাসে—সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও জানুয়ারিতে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে যথাক্রমে ৫৮ কোটি ৬১ লাখ ও ৮০ কোটি ৬২ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয় যথাক্রমে ৮৮ কোটি ৪৩ লাখ ৯৪ হাজার ও ৮৫ কোটি ২৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। এছাড়া মোটা অংকের রাজস্ব এসেছে গত মাসেও। জানুয়ারিতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১৪০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

অর্থবছরের শুরুটা ঘাটতি দিয়ে হলেও সর্বশেষ মাসে আশাব্যঞ্জক রাজস্ব আহরণের কারণে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পুরো অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেঁধে দিয়েছে, তা পূরণ হয়ে যাবে।

ভোমরা শুল্কস্টেশনে দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মনিরুল ইসলাম সরকার জানান, নির্বাচনের মাস ডিসেম্বরে রাজস্ব ঘাটতি কিছুটা বেশি ছিল। তবে গত মাসে রাজস্ব আহরণ অনেকটা বেড়েছে। অর্থবছরের আর পাঁচ মাস বাকি রয়েছে। জানুয়ারির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আশা করা হচ্ছে, এ সময়ের মধ্যে পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, বন্দরে রাজস্ব আহরণ কমবেশি হয় মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থাভেদে। সম্প্রতি ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি বেড়েছে। ফলে রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে।