Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২৪.০২.২০১৯

মিরপুরে প্লাস্টিক খাতের প্রতিষ্ঠান অ্যাপকো বাংলাদেশ লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি।

পরের মাসেই একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হয় দাহ্যবস্তু ব্যবহারকারী শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠান শনাক্তের। এর ঠিক চার বছর পর আবারো একটি কমিটি গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে মিরপুরের ঘটনার পর দাহ্যবস্তুর ব্যবহার বেশি এমন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অধীনস্থ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মাধ্যমে দাহ্যবস্তু ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সমীক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা ঘটার পর ২২ ফেব্রুয়ারি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি চকবাজারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দাহ্যবস্তু ব্যবহারকারী শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ এবং নিরাপত্তাঝুঁকির পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করবে। কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। ১০ দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ আহমেদ বলেন, পুরান ঢাকায় অবস্থিত কারখানাগুলোর ঝুঁকি শনাক্তে একটি তালিকা তৈরি করবে কমিটি। মূলত প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল কারখানাগুলো এ তালিকায় গুরুত্ব পাবে।

গঠন হওয়া কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, কমিটি চকবাজারে আগুনের উৎস নিয়েও তদন্ত করবে। এছাড়া গত এক বছরে ডিআইএফইর শনাক্ত করা দাহ্যবস্তু ব্যবহারকারী অনিবন্ধিত প্লাস্টিক, কেমিক্যাল কারখানা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তালিকার অন্তর্ভুক্ত করবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি মিরপুরে প্লাস্টিক খাতের প্রতিষ্ঠান অ্যাপকো বাংলাদেশ লিমিটেডে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ ফেব্রুয়ারি একটি কমিটি গঠন করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। দাহ্যবস্তু ব্যবহারকারী শিল্প-কারখানার কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাইয়ে এ কমিটি কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে গঠিত কমিটি পরীক্ষামূলক পরিদর্শনের মাধ্যমে দাহ্যবস্তু ব্যবহারকারী কারখানাগুলো নিয়ে কিছু সুপারিশ তৈরি করে। ওই সময়ে চালানো সমীক্ষায় শনাক্ত হওয়া কারখানাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কারখানা মূল্যায়ন প্রকল্পেরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় পোশাক খাতের কারখানাসহ রয়েছে প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল কারখানাও। ৬২ কোটি টাকার ওই প্রকল্প এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও রাবার খাতে অনুমোদনহীনভাবে বিপুল পরিমাণ কারখানা পরিচালিত হচ্ছে বলে অধিদপ্তরের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে অধিদপ্তরের কাছে এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যানও নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্র আরো জানায়, দেশে এখন পাঁচ হাজারের বেশি প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ কারখানা অনুমোদন ছাড়াই ঢাকায় ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে ডিআইএফইর কাছে তথ্য আছে।