মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ০১.০৩.২০১৯

 

রফতানিমুখী পোশাক খাতের জন্য তৈরি হয়েছে ডিজিটাল ম্যাপ বা মানচিত্র।

গত ফেব্রুয়ারিতেই উদ্বোধন হওয়া এ মানচিত্রের আওতাভুক্ত হতে শুরু করেছে পোশাক কারখানা ও শ্রমিকরা। ‘ম্যাপড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ঢাকা জেলার রফতানিমুখী ৯৬১টি কারখানা ও এসব কারখানায় কর্মরত ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৪২২ শ্রমিকের নাম ডিজিটাল মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ঢাকা জেলার ৯৬১টি কারখানার মধ্যে ৯৪৮টি বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য। এছাড়া ১৩টি কারখানা রয়েছে, যারা সাব-কন্ট্র্যাক্টিং পদ্ধতিতে পরিচালিত। এসব কারখানায় মোট শ্রমিক সংখ্যা ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৪২২ জন। মানচিত্রের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিজিটাল মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকদের ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী এবং বাকি ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও সিঅ্যান্ডএ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল মানচিত্রটি তৈরি হচ্ছে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বাংলাদেশ সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহায়তায় ‘ম্যাপড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মানচিত্রটি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে শুধু ঢাকা জেলার কারখানাগুলো অন্তর্ভুক্ত হলেও পর্যায়ক্রমে সারা দেশের পোশাক কারখানাকে এ মানচিত্রের আওতায় আনা হবে।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, পোশাক শিল্পের জন্য এ ডিজিটাল ম্যাপ তৈরির পদক্ষেপটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে পোশাক খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কোনো কারখানায় ক্রয়াদেশ দেয়ার আগে ক্রেতারা কারখানাটির সক্ষমতা, অবস্থান, উৎপাদন ব্যবস্থা, পণ্যসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে তথ্য পাবেন।

মানচিত্রের তথ্যভাণ্ডার (ৎসম.ড়ত্ম.নফ) ঘাঁটলে খাত-সংশ্লিষ্টদের এ বক্তব্যের সত্যতা মিলছে। সেখানে ক্রেতা-প্রতিষ্ঠানের নাম অনুযায়ী কারখানা খোঁজা হলে বিভিন্ন কারখানার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যভাণ্ডারে বাংলাদেশ থেকে পোশাক পণ্যের বড় ক্রেতা এইচঅ্যান্ডএমের নাম দিয়ে সার্চ করলে দেখা যায়, ৯৬১টি কারখানার মধ্যে সুইডিশ ব্র্যান্ডটির জন্য পোশাক সরবরাহ করে ১২৯টি। এসব কারখানার সিংহভাগই বিজিএমইএর সদস্য।

ওয়েবসাইটের তথ্যভাণ্ডার আরো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এইচঅ্যান্ডএমের জন্য পোশাক সরবরাহকারী কারখানাগুলোয় কর্মরত শ্রমিকদের ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। বাকিরা পুরুষ। এছাড়া কারখানাগুলোর নাম ও যোগাযোগের ঠিকানাও পাওয়া যাচ্ছে এ তথ্যভাণ্ডারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল মানচিত্রের মাধ্যমে পোশাক শিল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ভবিষ্যতে এ মানচিত্রে পোশাক শিল্পের বাইরে অন্যান্য শিল্প-কারখানাও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বর্তমানে যেকোনো কারণেই হোক, আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প অনেক বেশি ফোকাসড। ফলে এ শিল্পে আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে কাজ করতে হয়। ডিজিটাল মানচিত্রটির মাধ্যমে ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাবেন।