মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ১১.০৩.২০১৯

 

পোলট্রি খাতে মাংস ও ডিম রফতানির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ২০২৪ সাল নাগাদ পোলট্রি পণ্য রফতানি শুরু হবে।

এছাড়া আগামী দুই বছরে এ খাতে বাড়তি বিনিয়োগ হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। গতকাল তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পোলট্রি শো ২০১৯-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় সমাপনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। তিনদিনের প্রদর্শনীতে দেশী-বিদেশী প্রায় এক লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। মেলায় বেস্ট স্টল হিসেবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে এসিআই লিমিটেড। এছাড়া নাহার এগ্রো কমপ্লেক্স দ্বিতীয় ও রেনাটা লিমিটেড তৃতীয় পুরস্কার জিতেছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বাংলাদেশের পোলট্রি পণ্য রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এরই মধ্যে বেশকিছু ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও পোলট্রি শিল্পবান্ধব। এ খাতের উন্নয়নে জাতীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নীতিমালা ও পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্যের উৎপাদন নিশ্চিত করতে মত্স্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০ এবং নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রণয়ন করেছে। পোলট্রি খাদ্য উপকরণের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, নতুন নতুন রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব, ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়া প্রভৃতি এ শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইছউল আলম মণ্ডল বলেন, ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার যেন বেড়ে না যায়, সেজন্য এখনই কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পোলট্রি পণ্য রফতানি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ডিম ও মাংস রফতানির জন্য সরকার এরই মধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সে লক্ষ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) ও গাইডলাইন অচিরেই প্রণয়ন করা হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। যেকোনো মূল্যে খাদ্যের মান নিরাপদ রাখতে হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক জানান, দেশে বর্তমানে বাণিজ্যিক পোলট্রি খামারের সংখ্যা প্রায় ৮৮ হাজার।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, এ পোলট্রি শোর প্রভাবে আগামী দুই বছরে বিনিয়োগ বাড়বে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। তিনি অভিযোগ করেন, বারবার ভ্যাকসিন আমদানির অনুমতি প্রদানের আশ্বাস দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। মসিউর রহমান কাঁচামালের ওপর শুল্ক ও কর কমানো, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে এর হার শূন্য শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান। এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে তিনি প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিকের ওপর পাঁচ বছরের জন্য ভর্তুকি দেয়ারও দাবি জানান। বক্তৃতাকালে ট্যানারি বর্জ্যের বিরুদ্ধে পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন ও মিডিয়াকে যুক্ত করা, অবৈধ ফিড মিল উচ্ছেদে তিন মাসের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা, সারা দেশে পোলট্রি খামারের জরিপ শুরু করা, অবিলম্বে পোলট্রি উন্নয়ন বোর্ড গঠন এবং বছরজুড়ে ডিম ও মাংসের নায্যমূল্য পাওয়ার নিশ্চয়তা চান বিপিআইসিসি সভাপতি।

ওয়াপসা-বিবির সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, ২০২৪ সাল নাগাদ পোলট্রি পণ্য রফতানি শুরু হবে। বিভিন্ন দেশের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর হালাল মার্কেটে আমাদের প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।