মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ১৪.০৩.২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থগিত করা অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি বাংলাদেশকে আবার ফিরিয়ে দিতে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন

রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার সহায়তা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, আমি খুবই আশাবাদী ভবিষ্যতে বিষয়টির (জিএসপি) সমাধান হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘২৬ তম ইউএস ট্রেড শো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আশাবাদ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে চাই। ভবিষ্যতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তিতে এটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাই বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত এবং তাদের দূতাবাস এ ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।

টিপু মুনশি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার, যেখানে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে চায় বাংলাদেশ সরকার। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ করার আহ্বান জানান টিপু মুনশি।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার দুই দেশের মধ্যে পারষ্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চমানের পণ্য ও সেবা বাংলাদেশে প্রদর্শনের এবং বাংলাদেশে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান রাখার ভালো সুযোগ হচ্ছে ট্রেড শো।

আর্ল মিলার জানান, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৪৩ শতাংশ বেড়ে দুই দশমিক এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। আর গত দশ বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে আট দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও পরের বছর রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংগঠন ‘আমেরিকান অর্গানাইজেশন অব লেবার-কংগ্রেস ফর ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এএফএল-সিআইও) এর আবেদনে ২০১৩ সালের ২৭ জুন বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়।

জিএসপি স্থগিতের পর ওয়াশিংটন জানায়, কারখানাগুলোর কর্ম পরিবেশের উন্নতি এবং শ্রমিকদের সংগঠন করার সুযোগসহ ১৬টি শর্ত পূরণ হলে তবেই এ সুবিধা ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে পর্যন্ত ‘জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেসের (জিএসপি)’ আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ হাজার ধরনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় রপ্তানি করতে পারত।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধায় বাংলাদেশ যে পণ্য বিক্রি করত, তা দেশের ৫০০ কোটি ডলারের রপ্তানির ১ শতাংশের মতো। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক এই সুবিধা পায় না। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সঙ্গে মিলে ইউএস ট্রেড শো’র আয়োজন করে আসছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। এবারের আয়োজনে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান ৭৪টি বুথে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। এবার প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে ডায়াগনস্টিক অটোমেশন, ইলেকট্রো ভয়েস, প্যারা সাউন্ড ও পেওনার ইনক এবং অ্যাপল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা এবং ভিসা বিষয়ক দু’টি সেমিনারও হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে প্রদর্শনী। চলবে ১৬ মার্চ পর্যন্ত।