মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২৩.০৩.২০১৯

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ)

আসন্ন নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে স্বাধীনতা পরিষদ প্যানেল। দেশে-বিদেশে পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি তৈরি ও শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নসহ ১২ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এ প্যানেল।

গতকাল ঢাকা ক্লাবে ‘তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরা হয়। নবারুণ অ্যাপারেলস লিমিটেড আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় স্বাধীনতা পরিষদের নির্বাচনী প্যানেলের হুমায়ুন রশিদ জনি, মো. দোলোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম, হোসেন সাব্বির মাহমুদসহ ১৫ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজয়ী হলে বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত ছোট মূলধনের কারখানা মালিকদের সহযোগিতায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হবে।

কারখানার মালিকদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত বছর ইউডি (ইউটিলিটি ডিক্লারেশন—রফতানির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ঘোষণা) নিয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮০০ কারখানা। এর মধ্যে ৩০০ কারখানা সারা বছরে মাত্র একবার ইউডি নিয়েছে। অনেকে ঠিকমতো শ্রমিকদের বেতন দিতে পারে না। ছোট কারখানা মালিকদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের ভয়ও বেশি। তাদের জন্যই বিজিএমইএর সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন।

ইশতেহারে স্বাধীনতা পরিষদের প্রথম অঙ্গীকারটি পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তিসংক্রান্ত। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি দেশ ও বিদেশে সঠিকভাবে তুলে ধরা হবে, যাতে পোশাক শিল্প ও মালিকদের সম্পর্কে যে বিরূপ ধারণা আছে তার পরিবর্তন ঘটে। এক্ষেত্রে লবিস্ট নিয়োগসহ দেশ ও বিদেশের প্রচারমাধ্যম এবং দূতাবাসগুলোর সহযোগিতায় পোশাক শিল্পের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হবে।

দ্বিতীয় অঙ্গীকারে বলা হয়, সরকারের উন্নয়ন গতির সঙ্গে সংগতি রেখে একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হবে, যাতে এ খাতে আর কোনো শিল্প উদ্যোক্তা ঝরে না পড়েন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে নতুন কর্মসংস্থান করা হবে।

তৃতীয় অঙ্গীকারে বহুমুখী পণ্য তৈরি করার জন্য বিজিএমইএতে দেশী ও বিদেশীদের সহায়তায় একটি গবেষণা সেল গঠন করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করার সুপারিশ করবে এ সেল।

বিজিএমইএর সব স্ট্যান্ডিং কমিটিকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে চতুর্থ দফায়। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও সেবা দেয়ার মানসিকতা তৈরির অঙ্গীকারও দেয়া হয়েছে।

পঞ্চম দফাটি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) সংক্রান্ত। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ইউডি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। যাতে অনলাইনের মাধ্যমে ইউডি ইস্যু করা যায়।

সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের জন্য একটি অ্যাপস তৈরি করার কথা বলা হয়েছে ষষ্ঠ দফায়। বলা হয়েছে, এতে সহজেই উদ্যোক্তারা সহযোগী কারখানা খুঁজে পাবেন। সপ্তম দফায় বলা হয়েছে, ‘শ্রমিক মালিক ভাই ভাই, দেশ গড়তে একসাথে কাজ করতে চাই’—এ স্লোগান সামনে রেখে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বিরাজমান দূরত্ব নিরসনে মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ে একটি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে শিল্পের জন্য ক্ষতিকর কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়।

পাশাপাশি ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন বা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের প্রস্তুত করতে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বিজিএমইএ গঠনের অঙ্গীকার করেছে স্বাধীনতা পরিষদ জোট। মালিকদের সহযোগিতা দিতে পোশাক শিল্পে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেছেন তারা।

উল্লেখ্য, বিজিএমইএ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ এপ্রিল। এ নির্বাচনে স্বাধীনতা পরিষদ ছাড়াও রয়েছে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম। সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম যৌথভাবে যে প্যানেল দিয়েছে, তার নেতৃত্বে আছেন মোহাম্মদী গ্রুপের রুবানা হক।

বিজিএমইএতে ঢাকা-চট্টগ্রাম অঞ্চল মিলিয়ে মোট ৩৫ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে এরই মধ্যে নয়জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা অঞ্চলের বাকি ২৬ জন পরিচালক পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪২ জন প্রার্থী।

নির্বাচনের পর ৩৫ জন পরিচালক ভোটাভুটির মাধ্যমে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত করবেন।