Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ১১.০৪.২০১৯

ভারতের অভ্যন্তরে ফারাক্কা বাঁধের সংস্কারকাজ চলার কারণে চার মাস ধরে ওই পথে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের বৈদেশিক বাণিজ্যে। এরই মধ্যে বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরের কয়েক হাজার শ্রমিক।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে। বর্তমানে ৯০ থেকে ১০০টি ট্রাকের বেশি আসছে না।

বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আজিজ সরদার ও এনামুল হক জানান, দেশের অবকাঠামো নির্মাণকাজের জন্য অধিকাংশ পাথরই ভারত থেকে হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি হয়। প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৩০টি ট্রাকে শুধু পাথরই আমদানি হয়। এ বন্দরের রাজস্বের মূল উৎসই পাথর। বাকিগুলোর মধ্যে আছে পেঁয়াজ, খৈল, চাল, ভুট্টাসহ আরো কয়েকটি পণ্য।

গত ৪ ডিসেম্বর থেকে ফারাক্কা বাঁধের সংস্কারকাজ শুরু হয়। তখন থেকে বাঁধের ওপর দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। এতে করে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য অর্ধেকে নেমেছে। তবে অন্যান্য বন্দরের মতো সুযোগ-সুবিধা না থাকা এবং ভারতের অভ্যন্তরে কিছু সমস্যার কারণেই হিলি বন্দরে আমদানি-রফতানি কমেছে বলে জানিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।

হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে ফারাক্কা ব্রিজের সংস্কারের কারণেই বন্দরে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজস্বও কমে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে জীবিকা হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্দরের প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। কয়েকজন শ্রমিক জানান, সারা দিনে আট থেকে ১০টি করে ট্রাক লোড-আনলোডের কাজ পেতেন তারা। এখন দু-একটি ট্রাকের কাজ পাওয়া যাচ্ছে। ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে তাদের।

রাজস্ব আহরণে কতটা প্রভাব পড়ছে—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হিলি স্থলবন্দরে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে

আহরণ হয়েছে ১৭৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৩৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতির কারণ জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, মূল কারণ হলো আমাদের হিলি স্থলবন্দর ব্যবহারকারী যেসব আমদানিকারক ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে ফারাক্কা বাঁধের রাস্তাটি ব্যবহার করেন, সেটিতে ভারী যান প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ফারাক্কা বাঁধের সংস্কারকাজ চলার কারণে সেই পথ দিয়ে বর্তমানে পণ্য আমদানি হচ্ছে না। বর্তমানে দেশের অন্য বন্দর দিয়ে পণ্যগুলো আমদানি হচ্ছে। এ কারণে হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে এই ঘাটতি। তার পরও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৫ শতাংশ বেশি রাজস্ব পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া বাঁধের সংস্কারকাজ শেষ হয়ে গেলে রাজস্ব আহরণে যে ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ হবে, এমনকি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েও যেতে পারে বলে আশা করছেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।