Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ১৮.০৫.২০১৯

স্বল্প আয়ের মানুষের সাধ্যের মধ্যে পোশাক মিলে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে।

এ বাজার থেকে সারা দেশে সরবরাহ করা হয় নানা ধরনের পোশাক। বিশেষ করে ঈদে বেশ বেচাকেনা হয় এখানে। ভারতীয় পোশাকের কারণে বাজার সংকুচিত হলেও আসন্ন রোজার ঈদে ১৫০ কোটি টাকার পোশাক বেচাকেনার আশা করছেন দেওভোগের ব্যবসায়ীরা।

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আলী আহম্মেদ চুনকা সড়কের পাশেই অবস্থিত দেওভোগ কাটা কাপড়ের মার্কেট। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, ভুইয়া মার্কেট, নীলু ভুইয়া মার্কেট, আব্দুল হাকিম মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি মার্কেটে পাঁচ শতাধিক শোরুমে এসব পোশাকের পাইকারি বেচাকেনা হয়। ঢাকা, গাজীপুর, টঙ্গী, রংপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহসহ দেশের প্রায় ৬৪ জেলায় যায় এ পোশাক।

দেওভোগ পোশাক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল দেওয়ান জানান, চীন থেকে জর্জেট কাপড় আমদানি করে এখানে নানা ডিজাইনের কাপড় তৈরি করা হয়। প্রতি ঈদ পার্বণে ভালো বেচাকেনা হয়। তবে ভারতীয় পণ্যের দাপটে এখানকার ব্যবসায়ীরা অনেকটাই কোণঠাসা। আর এবার নতুন ডিজাইন না আসা ও গরমের কারণে মানুষ সুতি কাপড় বেশি কিনছে। ফলে এ বাজারে বেচাকেনায় মন্দা চলছে।

তিনি জানান, প্রতি বছর এ মার্কেট থেকে আড়াইশ থেকে ৩০০ কোটি টাকার পোশাক পাইকারি বেচাকেনা হয়। এবার ১৫০ কোটি টাকার হতে পারে। অনেক দোকানেই স্টকের বিশাল অংশ রয়ে যাবে।

একই কথা বলেন ইয়াছিন ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী ফাহিম হোসেন। তিনি বলেন, নগদ টাকায় কাপড় কিনে এনে পোশাক বানাতে ডিজাইন ও সেলাই বাবদ খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে ভারতীয় পোশাক বাজারে বিক্রি হচ্ছে একই দামে। ফলে দেওভোগের তৈরি পোশাক দিন দিন বাজার হারাচ্ছে।

তবে কাপড়ের ডিজাইন ও সেলাইয়ের মানের কারণে দেওভোগ আমদানি করা পোশাকের চেয়ে পিছিয়ে, সে কথা স্বীকার করেন ব্যবসায়ীরা। সাত্তার রেডিমেন্ট গার্মেন্টের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও বকুল ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী বকুল মিয়া বলেন, ভারতীয় কাপড়ের ফিনিশিং ভালো এবং প্রায় একই দামে বেচাকেনা হয়। এ কারণে দেওভোগের দেশীয় পণ্য মার খাচ্ছে। আর যেসব শোরুমের মালিক নতুন ডিজাইন এনেছে তাদের বেচাকেনা ভালো।

 

বিভিন্ন এলাকা থেকে কাপড় কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, এ মার্কেটে ক্রেতাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে জামা-কাপড় পাওয়া যায়।

নীলফামারী সাব্বির আলম ও কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী আবু নাসের মিয়া জানান, নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের সাধ্যের মধ্যে দামের পোশাক এখানে পাওয়া যায়। তারা প্রতি বছরই এ মার্কেট থেকে কাপড় নিয়ে যান।

এদিকে আসন্ন রোজার ঈদ সামনে রেখে দেওভোগের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকরা এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাহিদার চাপ সামলাতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের কাজ করতে হচ্ছে।

তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতি ঈদে কাজের চাপ বাড়ে। কিন্তু তাদের মজুরি বাড়ে না। তাদের দাবি, দেওভোগের তৈরি পোশাকের মান খুবই ভালো। ব্যবসায়ীরা ভালো দামে বেচাকেনা করছেন। অন্তত ঈদের সময় যেন তাদের মজুরি বাড়ানো হয়, সে দাবি তাদের।