মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২০.০৫.২০১৯

মেসার্স নূপুর অ্যাপারেলস। আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিতে বন্ড লাইসেন্স

(নং-৫(১৩)কাবক/চট্ট/বন্ড/লাই:/২২/২০১২) নেয় ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর। কারখানার ঠিকানা দেখানো হয়েছে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ২৪১৬/২৭৫৮, শরীফ বিল্ডিং। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে অংশই নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে এখন পর্যন্ত দাখিল করেনি কোনো নিরীক্ষা প্রতিবেদনও। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষা কার্যক্রমের বাইরে থেকে লাইসেন্স সক্রিয় থাকলে রাজস্বের পাশাপাশি আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট চট্টগ্রামের নথি পর্যালোচনা করে এমন ৩২টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য মিলেছে, যারা শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে নিরীক্ষা প্রতিবেদনও দাখিল করেনি। এদের কেউ আবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত হলেও বাস্তবে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের কোনো তথ্য নেই।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট চট্টগ্রামের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের অনুকূলে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্স ইস্যু করা আছে। কিন্তু শুরু থেকেই কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ। অনেকেই নিরীক্ষাসংক্রান্ত দলিলাদি দাখিল করেনি।

তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ঝুঁকি তৈরি করে। আমরা এ রকম পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছি। আরো ২৭টি প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স স্থগিত (সাসপেন্ড) করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি ও এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়েও সক্রিয় না হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর হাতে বায়ারদের কোনো অর্ডার নেই। এলসি নিতে না পারায় তারা আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে চাইলেও আর অংশ নিতে পারছে না। আর অডিটের বিষয়টি মূলত ব্যবসায়ীরা তিন বছর পর গিয়ে তাড়াহুড়ো শুরু করে, যখন জেনারেল বন্ড আনার সময় হয়। তবে গত পাঁচ বছরে অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের কারণে অনেক বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান নিজের লাইসেন্সে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেনি। তাদের কেউ কেউ

সাব-কন্ট্রাক্টে চলে গেছেন।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের নথিতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নেই এমন বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—চট্টগ্রামের ৪৩৬/৪৫৭, গাজী শাহ লেইন, দেবপাহাড় ঠিকানার মেসার্স কোহিনুর অ্যাপারেলস, সদরঘাট এলাকার মেসার্স সামস ডি অ্যাপারেলস, ঈদগাহ ডিটি রোডের মেসার্স কার্নিভাল ফ্যাশন, ১২৪৮ ডিটি রোড, ধনিয়ালাপাড়া ঠিকানার মেসার্স ট্রেড স্ক্যান লিমিটেড, ২১৫/২১৬ দেওয়ানদীঘি, দেওয়ানহাট ঠিকানার মেসার্স বেনিলাক্স অ্যাপারেলস, বিসিক শি/এ কালুরঘাট ঠিকানার মেসার্স ইমন অ্যাপারেলস, চান্দগাঁও ঠিকানার মেসার্স এএম সুয়েটার লিমিটেড, ৭০০/৮ টার্মিনাল কানেক্টিং রোড, চান্দগাঁও ঠিকানার মেসার্স সেঞ্চুরি (প্রা.) লিমিটেড।

এছাড়াও রয়েছে, ৫২ সদরঘাট রোড ঠিকানার মেসার্স গ্লোবাল স্পেশালাইজড লিমিটেড, বন্দরটিলা ঠিকানার মেসার্স প্রাইম ফ্যাশন লিমিটেড, কালুরঘাট ঠিকানার মেসার্স গ্লোবাল অ্যাপারেলস লিমিটেড, ৮৫৯ হক মার্কেট, চান্দগাঁও ঠিকানার মেসার্স সাদমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, কালুরঘাট ঠিকানার মেসার্স মোহাম্মদী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, রাজাখালী চাক্তাই ঠিকানায় মেসার্স শ্যারন চৌধুরী অ্যাপারেলস, ডিটি রোড মনছুরাবাদ ঠিকানার মেসার্স ডেইলিম টেক্সটাইল লিমিটেড, আরাকান রোড চান্দগাঁও ঠিকানার মেসার্স আল্লামা ফ্যাশন লিমিটেড, বিসিক শি/এ ফৌজদারহাট ঠিকানার মেসার্স আরএল ডেনিম লিমিটেড, ৩২০ পুরাতন গির্জা ঠিকানার মেসার্স মার্ক ফ্যাশন ওয়্যার (প্রা.) লিমিটেড, ২৪১৬/২৭৫৮ চান্দগাঁও ঠিকানার মেসার্স নূপুর অ্যাপারেলস লিমিটেড, ৫৬ গোসাইলডাঙ্গা ঠিকানার মেসার্স ভ্যানগার্ড ফ্যাশন লিমিটেড, আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোড ঠিকানার মেসার্স এনজা টেক্সটাইল, চাক্তাইয়ের রাজামালী ঠিকানার মেসার্স ইউনিটি ইন্ডা. (বিডি) লি., কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরী ঠিকানার মেসার্স ইফকো গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড, কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরী ঠিকানার মিশন অ্যাপারেলস ইন্ডা. লি., ১১১৩/১১৪ এনায়েত বাজার ঠিকানার মেসার্স নিড ড্রেসেস (প্রা.) লিমিটেড, পটিয়া বিসিক শি/এ ঠিকানার মেসার্স লিংক অ্যাকসেসরিজ লি., কেইপিজেডে অবস্থিত মেসার্স এসওএস আউটফিটার্স লিমিটেড, ১১৫৪ ডিটি রোড ঠিকানার মেসার্স ফোর এইচ ইনটিমেটস লিমিটেড, ঈদগাহ ডিটি রোড ঠিকানার মেসার্স সিমা গার্মেন্টস লিমিটেড, কর্ণফুলী ইপিজেডে অবস্থিত মেসার্স জেনফোর্ট সুজ (বিডি) লিমিটেড, ষোলশহর শি/এ ঠিকানার মেসার্স ইউনেস্কো ফ্যাব্রিকস ওয়্যার লিমিটেড, অক্সিজেন রৌফাবাদ ঠিকানার মেসার্স টিকে এম গার্মেন্টস লিমিটেড।