Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২৪.০৫.২০১৯

সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিচালনার জন্য ‘ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট

কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। এটি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে ২৬ মের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ সময়ের মধ্যে যেসব ট্যানারি মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাবেন, তাদের সদস্য করে কোম্পানিটি গঠন করা হবে।

গতকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ে সাভার শিল্পনগরীর সার্বিক বিষয়ে চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠন ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

সভায় সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সার্বিক অবস্থা বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে প্লটের মূল্য কমানোর দাবি, সলিড বর্জ্য ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থাকরণ, ট্যানারি মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ ও লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের কমপ্লায়েন্স অনুসরণের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চামড়া শিল্পনগরীর প্রতি বর্গফুট জায়গা উন্নয়নের জন্য সরকারের ১ হাজার ৭০০ টাকা খরচ হলেও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে তা প্রতি বর্গফুট ৪৭১ টাকা নির্ধারণ করেছে। সার্বিক বিবেচনায় প্লটের মূল্য কমানোর আর কোনো সুযোগ নেই। যেসব ট্যানারি মালিক স্থানান্তরের শর্ত পূরণ করেছেন, তাদের অনুকূলে শিল্প মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছে।

২০১৯ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যেক ট্যানারি মালিককে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয় সভায়। এ সময়ের মধ্যে যন্ত্রপাতি স্থাপনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ট্যানারির উৎপাদন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির অবশিষ্ট যন্ত্রপাতি শিডিউল অনুযায়ী প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) শেষে স্থাপন করা হবে। চীনা ঠিকাদারি কোম্পানি চার মাসের মধ্যে সিইটিপি পুরোপুরি চালু এবং দেশীয় জনবলকে প্রশিক্ষিত করে কোম্পানির কাছে পরিচালনার দায়িত্বভার হস্তান্তর করবে। এছাড়া চামড়া শিল্পনগরীর সলিড বর্জ্য ডাম্পিংয়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করার বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় ট্যানারি মালিকরা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের কমপ্লায়েন্স সনদ অর্জনের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, এটি দ্রুত করা না হলে ২০২১ সাল নাগাদ চামড়া শিল্প খাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব রয়েছে। যেসব ট্যানারি মালিক জমির নির্ধারিত মূল্য পরিশোধে আগ্রহী নন, তাদের প্লট বাতিল করা হবে। এরই মধ্যে অনেক চামড়া শিল্পোদ্যোক্তা সরকার নির্ধারিত মূল্যেই প্লটের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার ট্যানারি মালিকদের অনেক সুবিধা দিয়েছে। এ শিল্পের স্বার্থে আইনের আওতায় ভবিষ্যতে যতটুকু সুবিধা দেয়া সম্ভব, তা দেয়া হবে। তবে জমির মূল্য কোনোভাবেই কমানো হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিনসহ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।