মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ৩১.০৩.২০২১

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রক্ষা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন একটি প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

সব কাজ শেষ করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আটকে গেল ‘মূল্যস্ফীতি’ বেড়ে যাবে বলে! সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বরাবরই বঞ্চিত। প্রণোদনা প্যাকেজের ক্ষেত্রেও তাই। গত মাসেও মূল্যস্ফীতির হার কম ছিল।

তা ছাড়া ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলে যতটুকু বিতরণ হয়েছে তাতে যদি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতায় প্রভাব পড়ে তাহলে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়বে না। আর যদি উৎপাদন ক্ষমতা না বেড়ে থাকে তাহলে নতুন প্রণোদনা আপাতত স্থগিত রাখা যেতে পারে।’

সূত্র মতে, সরকার ঘোষিত এক লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়ার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় সে তহবিল থেকে ঋণ পাচ্ছেন না ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। গত ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই প্যাকেজের আওতায় ১০ হাজার ৮২৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এখনো প্রায় অর্ধেক ঋণ বিতরণ করা হয়নি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বলছেন, কাগজপত্রের ঝামেলায় তাঁরা ঋণ নিতে পারছেন না। ব্যাংকগুলোও সাহায্য করছে না। এসব বিবেচনায় নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কুটির, মাইক্রো এবং ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তাদের দ্রুত ঋণ দিতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য একটি নীতিমালাও তৈরি করা হয়। কিন্তু এবারও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভাগ্য খারাপ। কারণ তহবিলটি আপাতত আলোর মুখ দেখছে না। গত ১৫ মার্চ তহবিলের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্যাকেজটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘এ পর্যায়ে প্রণোদনা প্যাকেজটির কার্যক্রম গ্রহণ করা সমীচীন হবে না।

পূর্বে গৃহীত প্রণোদনা প্যাকেজের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রায় অর্ধেক অব্যয়িত রয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজটির কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে।’

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, “বিসিক, ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তা, বিআরডিবির অনুকূলে ১৫০০ কোটি টাকার প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের কারণে বিষয়োক্ত প্যাকেজের আওতায় আর বরাদ্দের প্রয়োজন নেই। এটি ঘূর্ণায়মান হিসেবে পুনর্ব্যবহার করা যাবে। ১০ হাজার কোটি টাকার এই প্যাকেজের জন্য অর্থনীতিতে ‘মাল্টিপ্লেয়ার ইফেক্ট’ হিসেবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রভাব পড়বে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি ঘটাতে পারে।”

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের বিষয়টি অর্থ বিভাগ পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা করে অর্থ বিভাগ যদি মনে করে প্যাকেজটি বাস্তবায়নযোগ্য, তাহলেই শুধু এটি আলোর মুখ দেখবে।