মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ০৮.১০.২০১৮

অনেকেই খাবারে মসলা হিসেবে কারি পাতা ব্যবহার করেন। নিম পাতার মতো দেখতে এ পাতা মিষ্টি নিম কিংবা বারসুঙ্গা নামেও পরিচিত।

এর পাতা ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক ধরনের রান্নায় ব্যবহার করা হয়। প্রায়শই ঝোল জাতীয় রান্নায় ব্যবহার করা হয় বলে সাধারণত একে 'কারি পাতা' বলা হয়। বাংলায় স্খানীয় কিছু নামও আছে- নিমভুত, বারসাঙ্গা ইত্যাদি। তামিল ভাষায় বলে কারিভেম্পু, তেলেগুতে কারেপাকু। হিন্দিতে বলে কাঠনিম, মিঠানিম, গোরানিম, গাধেলা, কারি পাত্তা ইত্যাদি।

ঝোল থেকে শুরু করে কারি, স্ট্যু সবেতেই কারি পাতার ব্যবহার আছে। এর অন্যতম কারণ হল এর বিশেষ সুবাস ও স্বাদ। কারি পাতার বিজ্ঞান সম্মত নাম হল মুরায়া কোয়েনিগি স্প্রেং। কারি পাতা সাধারণত ক্রান্তীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলেই পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লোহা, ম্যাগনেসিয়াম ও তামার মতো পুষ্টিপদার্থের ভাণ্ডার। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কারি পাতা খেলে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের প্রতি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়ে। সেই সঙ্গে একাধিক মারণ রোগকে দূরে রাখতে ও আয়ু বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে কারি পাতা।

কারি পাতার মধ্যে থাকা ফাইবার ওজন হ্রাস, পাচন ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বক এবং চুলের সমস্যার জন্য উপকারী। কারি পাতার ডিটক্সিকেশন বৈশিষ্ট্যটিও চমৎকার এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিডায়াবেটিক হিসেবে এই পাতা বিখ্যাত। এখানে জেনে নিন কীভাবে কারি পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।

কারি পাতা ফাইবার সমৃদ্ধ। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে দেয়। দ্রুত হজম হয়ে যায় না যার ফলে রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ইনসুলিন ক্রিয়াকলাপকে প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি করতে কারি পাতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শরীর যদি ইনসুলিনে ভালো সাড়া দিতে সক্ষম হয় তাহলে আপনার রক্ত শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের একটি আন্তর্জাতিক জার্নাল- ডাই ফার্মাইজিতে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী এই পাতার হাইপারগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্য দেখানো হয়েছে। ডায়াবেটিক ইঁদুরের রক্তে গ্লুকোজ স্তর নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী হতে দেখা গেছে এই পাতাকে। ভারতীয় গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা যায়, ত্রিশ দিন ধরে রোজ এই পাতার ২০০ মিলিগ্রাম/ কেজি/বি.ডব্লিউ উল্লেখযোগ্যভাবে রক্তে গ্লুকোজ, গ্লাইকোসাইলেটেড হিমোগ্লোবিন, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমিয়ে দেয় ডায়াবেটিক পশুদের মধ্যে। আপনি ৮-১০টা তাজা কারি পাতা খেতে পারেন, রস করতে পারেন। আপনার খাবার এবং স্যালাডে যোগ করতে পারেন।