মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ১০.১০.২০১৮

মুখের ভেতর, জিবে বা গালের ভেতর ঘা হলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। বারবার এমন সমস্যায় আক্রান্ত হন কেউ।

মুখে বেশ বড় গর্ত নিয়ে ক্ষত বা ঘায়ের সৃষ্টি হওয়া, ব্যথায় মুখ নড়াচড়া না করতে পারা, খাওয়া দাওয়া করাও খুব মুশকিল এই অবস্থা বেশ যন্ত্রণাদায়ক। এরকম মুখের ঘায়ের সমস্যা অনেকেরই হয়ে থাকে।

 

আপনি যদি প্রায়ই এই সমস্যায় পড়েন তো সেটি চিন্তার বিষয়। কারণ এ ক্ষত পরবর্তীতে বড় কোনো রোগ ডেকে আনতে পারে, এমনকি ওরাল ক্যানসারও হতে পারে। তাই মুখে ঘা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা দরকার।

 

আসলে মুখের ভেতরের ঝিল্লি আবরণ কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে মুখে ছোট ছোট দানার মতো ঘা দেখা দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু বারবার মুখে ঘা হলে এবং তা না সারলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

 

কেন হয় মুখে ঘা

 

১. ডায়াবেটিক রোগীদের মুখে ঘা হওয়ার প্রবণতা বেশি। কেননা এই রোগীদের ঘা বা ক্ষত হয় বেশি, আর হলেও আরোগ্য পেতে দেরি হয়।

 

২. গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের মুখে ঘা হতে পারে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য।

 

৩. মুখের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ হলে মুখে ঘা হয়। এছাড়া দাঁতের ও মাড়ির কোনো রোগ থাকলেও সেই জীবাণু দিয়ে মুখে ঘা হতে পারে।

 

৪. যাদের তীব্র পরিমাণে ভিটামিনের অভাব থাকে তাহলে যে কারোই মুখে ঘা হতে পারে।

 

৫. কোনো কারণে মানসিক চাপ বেশি থাকলে হরমোনজনিত কারণে মুখে ঘা হয়।

 

৬. ওপরের দিকের মাড়ির দাঁত ও নিচের দিকের মাড়ির দাঁতের কারণে অনেক সময় গালে কামড় লাগে, এর কারণেও মুখে ঘা হয় বলে ধারণা করা হয়। আবার ব্রাশ করতে গিয়ে আঘাত লাগলেও সেখান থেকে মুখে ক্ষত তৈরি হতে পারে।

 

৭. এছাড়া নিয়মিত ব্রাশ না করলে, মুখের ভেতর অপরিচ্ছন্ন থাকলে, ঝাল-মশলা বা গরম খাবার বেশি খেলে মুখে ঘা হতে পারে। আবার অপরিস্কার ইনহেলার নিয়মিত ব্যবহার, স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ সেবন থেকেও মুখে ঘা হয়।

 

কীভাবে সাবধানে থাকবেন

 

১. মুখে আঘাতের বিষয়ে সাবধানে থাকবেন। দাঁত ব্রাশের সময় সতর্ক থাকবেন। দাঁত আঁকাবাঁকা থাকলে সেটার চিকিৎসা করান।

 

২. এ সমস্যা রোধের জন্য পরিমিত খাবার, ঘুম, মানসিকভাবে চাঙা থাকার চেষ্টা করবেন।

 

কী করবেন ঘা হলে

 

যষ্টিমধু

 

যষ্টিমধু মুখের ঘা দূর করতে বেশ কার্যকরী। এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দুই কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এটি দিয়ে কয়েকবার কুলি করুন।

 

টি ব্যাগ

 

দ্রুত ব্যথা এবং ইনফ্লামেশন দূর করে টি ব্যাগ। একটি টি ব্যাগ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে সেটি ঘায়ের স্থানে লাগান। ব্যথা এবং ক্ষত কমে যাবে।

 

নারকেল দুধ

 

এক টেবিল চামচ নারকেল দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। এবার এটি ঘায়ের স্থানে ম্যাসাজ করুন। দিনে তিন থেকে চারবার করুন। মধু ছাড়া শুধু নারকেলের দুধ দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন।

 

তুলসি

 

কয়েকটি তুলসি পাতাসহ পানি দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন। এটি দ্রুত মুখের ঘা প্রতিরোধ করে দিবে এবং মুখের ঘা হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেবে।

 

অ্যালোভেরা জেল

 

অ্যালোভেরা জেল বা জুস মুখের ঘা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফিংগাল, অ্যান্টিভাইরাল উপাদান আছে যা ক্ষতও কমিয়ে দিতে পারেন।

 

ঘায়ের ব্যথা বেশি হলে এক টুকরা বরফ নিয়ে ঘায়ের স্থানে রাখুন। অথবা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে কুলিকুচি করুন।

 

এক টুকরো লবঙ্গ মুখে দিয়ে রাখুন। অথবা লবঙ্গের রস দিয়ে ঘায়ের স্থানটি লাগাতে পারেন।

 

লবণ পানি কুলকুচি করে নিতে পারেন, এটি মুখের ইনফেকশন প্রতিরোধ করে থাকবে।

 

প্রচুর পানি পান করুন।

 

মেডিকেটেড মাউথওয়াশ বা অ্যান্টিসেপটিক জেল ব্যবহার করতে পারেন।

 

মাড়িতে প্লাক জমলে তা অবশ্যই স্কেলিং করিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

 

ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঠিক চিকিৎসা বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

 

ভিটামিন ‘বি’-র স্বল্পতা, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, মুখ অপরিষ্কার, মানসিক অস্থিরতা ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে।

 

নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা। ধুমপান, জর্দা দিয়ে পান ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা।

 

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করুন।

 

মুখ ও জিবের পরিচ্ছন্নতা

 

প্রতিদিন দুবার অন্তত দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করবে। দুই থেকে তিন মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করবেন

 

চিনি, চিনির তৈরি খাবার—যেমন মিষ্টি, চকলেট, জুস, কোমল পানীয় ইত্যাদি বেশি খাওয়া ঠিক নয়। আঠালো চকলেট আরও ক্ষতিকর।

 

প্রতিদিন লবণ-পানি দিয়ে কুলি করার অভ্যাস ভালো। ধুমপান বন্ধ করুন। গুল-জর্দা বা তামাক ব্যবহার করবেন না। বছরে একবার অন্তত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।