মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ১৮.১০.২০১৮

থাইরয়েড শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। শরীরে থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে বিভিন্ন সমস্যা হয়। থাইরয়েডের সমস্যা যে বড় একটা সোজা সমস্যা নয়, সেটা যারা ভুক্তভোগী সবাই জানেন।

একবার থাইরয়েড ধরা পড়লো তো ব্যাস! সারা জীবনই মোটামুটি ওষুধ খেয়ে যাওয়ার পালা শুরু হয়ে যায়। থাইরয়েডকে অনেকসময় সাইলেন্ট কিলারও বলা হয়। থাইরয়েডের প্রধান কাজ হলো মেটাবলিজম এবং মস্তিষ্ক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করা। সমস্যার শুরুটা হয় যখন থাইরয়েড গ্রন্থির গোড়ায় ছোট একটি মাংসপিণ্ড বেড়ে ওঠে, যা হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়।

থাইরয়েডের ভারসাম্যহীন অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কিছু প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদান। এই ভেষজগুলো কেউ চাইলে এমনিতেই খেতে পারে অথবা চা তৈরি করে অথবা ক্যাপসুল বা ঔষধ হিসেবে খেতে পারে। তাই থাইরয়েড গ্রন্থির থেকে সবচেয়ে বেশি উপকারিতা পাওয়ার জন্য সঠিক পরিমানে সেসব ভেষজ ঔষধ গ্রহন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। থাইরয়েড স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সবারই উচিত এসব ভেষজ উপাদান গুলো সম্পর্কে জেনে রাখা এবং যে উপাদানটি যার জন্য ভালো কাজ করে তা গ্রহণ করা।

 

১. আদা

 

অনন্য ঔষধিগুন সম্পন্ন আদা সাধারণত বমি বমি ভাব ও পেটের সমস্যার জন্য বেশ ভাল কাজ করে আবার এটি থাইরয়েডের জন্যও আদর্শ। এর কারন হচ্ছে আদা তে রয়েছে উচ্চ মাত্রার জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়াম যা থাইরয়েডের অবস্থা ভালো রাখতে প্রয়োজন। তবে উপকারিতা বেশি পেতে হলে অবশ্যই তাজা আদা গ্রহণ করতে হবে। ভাল উপকার পেতে আদা কুচি খাওয়া যায় বা আদা দিয়ে চা তৈরি করা খাওয়া যায়। আদা দিয়ে তৈরি করা চা কুসুম গরম অবস্থায় অর্গানিক মধু মিশিয়ে খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। গরম অবস্থায় মধু কখনো মেশানো যাবে না কারন এতে মধুর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।

 

২. তিসিবীজ

 

এটিও সাধারণত হজমতন্ত্রের জন্য বেশ উপকারী কারন হচ্ছে এটি উচ্চখাদ্য আঁশ সমৃদ্ধ। তিসিবীজ থাইরয়েডের জন্যও ঔষধের মত কাজ করে। যাদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণ কম হয় তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ভাবে তিসিবীজ খেলে সেই নিঃসরণের পরিমান বৃদ্ধি পায়।খুব বেশি পরিমান না খেয়ে প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ করে খেলে এর সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া সম্ভব হবে। তিসিবীজ গুড়ো করে যেকোনো পানীয়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন নয়তো যেকোনো খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

 

৩. বিছুটি পাতা

 

এই পাতা অতিরিক্ত কার্যকরী ও কম কার্যকরী দুই ধরনের থাইরয়েডের সমস্যার ক্ষেত্রেই উপকারী। এটি থাইরয়েডের টনিক হিসেবে খেতে বলা হয় কারন এতে থাকে প্রচুর পরিমাণ আয়োডিন যা খেলে এই পুষ্টি উপদানের অভাব পূরণে ঔষধের মত কাজ করে। এই পাতা দিয়ে চা তৈরি করে খাওয়া হচ্ছে সবচেয়ে সহজ ও উপকারী।

 

এগুলো ছাড়াও প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন বাদাম, ডাল, মাছ ও মুরগি খেতে পারেন। শস্য জাতীয় খাবার খেতে হবে আর চিনি, ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার ও টিনজাত খাবার বর্জন করুন। কম কার্যকর থাইরয়েডের সমস্যার জন্য প্রতিরোধক হিসেবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কাজ করে।

 

এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিভিন্ন ধরনের সবজি, ফল ও ভেষজ উপাদানে পাওয়া যায় যেমন ব্রকলি, স্কোয়াস, জাম্বুরা, রসুন ইত্যাদি।