মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম
তারিখঃ ১৬.০৭.২০১৫
রাতে ঘুম আসেনা এরকম মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নেই পৃথিবীতে। আপনি কি জানেন আপনার নিরঘুম রাত কাটানোর এ সমস্যার মুল কারণ আপনিই?

আপনার প্রতিদিনের কিছু বদঅভ্যাসের কারনেই আপনার ঘুম হয় কম। জেনে নিন কি কারণে আপনার ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে-  

খাওয়ায় অনিয়ম
সকালে দেরি করে নাশতা করা, মাঝে মধ্যেই দুপুরের খাবার না খাওয়া আর রাতে একেক দিন একেক সময়ে খাওয়া। নগরজীবনে এই রকম উল্টোপাল্টা খাবারের রুটিন কেবল রাতের ঘুম নয়, ঝুঁকিতে ফেলতে পারে আপনার স্বাস্থ্যকেই। খাবারের সময় ঠিক করুন। প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। বিশেষত রাতের খাবারের সময় নিয়ে সতর্ক হন। ঘুমাতে যাওয়ার অন্ততপক্ষে ২/৩ ঘণ্টা আগেই রাতের খাওয়া সেরে নিন।

মুখের পরিচ্ছন্নতা
রাতে খাওয়ার পরই দাঁত মেজে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। এটা ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে আগে না হলেই ভালো। আমরা অনেক সময় মুখ সজীব রাখতে পিপারমিন্ট জাতীয় কিছু চিবিয়ে নিই। কিন্তু এটা ঝামেলা ডেকে আনতে পারে। পিপারমিন্টের কারণে মস্তিষ্কে যে প্রতিক্রিয়া হয় তা আপনাকে জেগে থাকতে সাহায্য করতে পারে। ফলে রাতে মুখ ধুয়ে ফেলার পর এমন কিছু না চিবানোই ভালো। আর যদি তা করতেই হয় তাহলে পিপারমিন্ট ছাড়া স্ট্রবেরি বা অন্য কোনো ফ্লেভার চেষ্টা করা যেতে পারে।

পড়ার অভ্যাস
রাতে পড়তে পড়তে ঘুমাতে যাওয়া অনেকেরই অভ্যাস। এটা নানা দিক থেকেই ভালো। কিন্তু মুশকিল হলো রাতে ঘুমানোর আগে কি পড়বেন। ছুটির দিনের আগে কিছুটা রাত জেগে পড়া ভিন্ন কথা। কিন্তু সকালে অফিস থাকলে? বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তেজনা তৈরি করে এমন কিছু পড়তে গেলে আপনার ঘুম উধাও হয়ে যেতে পারে। ফলে, বিছানায় শুয়ে হালকা কিছু পড়ুন। বিনোদন পত্রিকা কিংবা হালকা গল্প-উপন্যাস জাতীয় কিছু। অর্থাৎ আপনার বিশেষ আগ্রহ জাগে না এমন কিছুই পড়ুন। তাতে ঘুম নষ্ট হবে না।

ধূমপান
অনেক ধূমপায়ীরই প্রিয় অভ্যাস রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে একটা সিগারেট খেয়ে নেওয়া। কিন্তু মস্তিষ্কে নিকোটিনের প্রভাবের কারণে আপনার ঘুমের বারোটা বেজে যেতে পারে। ধূমপান যদি ছাড়তে না পারেন তাহলে অন্তত রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক আগেই শেষ সিগারেটটা খেয়ে নিন। নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন যে কোনোভাবেই এরপর আর সিগারেট খাওয়া যাবে না। অনেকেই এই কারণে রাতে বাড়ি ফেরার সময় সিগারেট নিয়ে ফেরেন না বা বাড়িতে সিগারেট রাখেন না।

ফ্রিজের ঠান্ডা পানি
রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস ঠান্ডা পানির তৃষ্ণা হতেই পারে। এতে শরীর জুড়োয় ঠিকই কিন্তু মস্তিষ্কও চাঙা হয়ে ওঠে। আর শরীর জুড়ানোর কারণেই দেহ নিজেকে আবারও উষ্ণ করে তুলতে নতুন করে তাপ সঞ্চার করতে শুরু করে। ফলে আপনার ঘুম পিছিয়ে যেতে পারে। এ কারণে রাতে আর ঠান্ডা পানি খাবেন না। তবে, ঘুমাতে যাওয়ার খানিকটা আগে হাত-মুখ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে বিছানায় যান।