Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

লাইফস্টাইল ডেস্ক তারিখঃ ০৭.০৪.২০২১

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়লো কিনা, টিকা কি কার্যকর? কত প্রশ্ন জাগে মনে।

এক বছরের মহামারীতে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস বয়ে এনেছিল টিকা। তবে সেই স্বস্তিই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল।

বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ গত বছরের চাইতেও দ্রুত গতিতে বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আবারও শুরু হয়েছে দেশব্যাপি লকডাউন।

টিকার কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য টিকা গ্রহণের পর কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। টিকার কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে, আর সেগুলোর মধ্যে কয়েকটিকে ধরা হয় টিকার কার্যকারিতার লক্ষণ।

ওষুধের তুলনায় টিকা ভিন্ন, সেটা কাজ করছে কি-না বুঝতে সময় লাগে। অনেক টিকা একবার নিলেই সারাজীবনের মতো একটি নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়। তবে করোনাভাইরাসের জন্য এমন টিকা এখনও তৈরি হয়নি।

ফলে টিকা গ্রহণকারীদের মনে স্বভাবতই প্রশ্ন আসবে টিকা আসলেই কাজ করছে তো?

অপরদিকে করোনাভাইরাসও ‘মিউটেশন’য়ের মাধ্যমে তার বৈশিষ্ট্য পাল্টাচ্ছে। ফলে টিকা আসলেই কাজ করছে কি-না সেসব প্রশ্নও জাগতে পারে।

এক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পর ‘অ্যান্টিবডি টেস্ট’ করানো কি আবশ্যক?

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল বিস্তারিত।

মহামারীর সময়ে

মহামারীর বর্তমান তীব্রতা জানার প্রধান উপায় হলো নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা করানো। ‘অ্যান্টিবডি টেস্ট’ হল করোনাভাইরাসে বিরুদ্ধে লড়াই করার কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা শরীরে তৈরি হয়েছে কি-না সেই পরীক্ষা।

দুটি পরীক্ষার ওপরেই মানুষ এখন জোর দিচ্ছেন। বিশেষত, যারা টিকা নিয়েছেন তাদের ‘ইমিউনিটি’ তৈরি হয়েছে কি-না সেটা জানতে ‘অ্যান্টিবডি টেস্ট’ করছেন।

‘অ্যান্টিবডি’ পরীক্ষা কী?

এটা হল সংক্রমণ দমনকারী এক ধরনের প্রোটিন, যা ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলেই তৈরি হয়। এটি জীবাণুকে শনাক্ত করে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। তাই ‘অ্যান্টিবডি টেস্ট’ বা ‘ইমিউনিটি টেস্ট’ ‘পজিটিভ’ আসা মানে হল শরীরে জীবাণু দমনের ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

আর একবার একটি জীবাণুকে দমন করার পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সেই দমন পদ্ধতি পরে আবারও অনুসরণ করার ব্যবস্থাও করে রাখে।

টিকা এই কাজেই সাহায্য করে। সংক্রমণের পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং তা দমনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘অ্যান্টিবডি’ যোগান দেওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে।

এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে ঘটছে কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায় অ্যান্টিবডি টেস্ট’য়ের মাধ্যমে। টিকার কার্যকারিতাও পরিমাপ করা যায় একটি জনগোষ্ঠীর ‘অ্যান্টিবডি টেস্ট’য়ের ফলাফল থেকে।

টিকা নেওয়ার পর কখন পর্যাপ্ত ইমিউনিটি তৈরি হয়?

বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রায় সব টিকাই দুই ‘ডোজ’য়ের। সর্বোচ্চ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রথম ‘ডোজ’য়ের কয়েকদিন পর দ্বিতীয় ‘ডোজ’ দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ‘ডোজ’ গ্রহণের ১৪ দিন পর একজন ব্যক্তিকে পুরাপুরি টিকা দেওয়া হয়েছে সেই দাবি করা যাবে। এর আগে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যতই শক্তিশালী হোক না কেনো তা হবে ক্ষণস্থায়ী।

পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি না হলে?

আন্তর্জাতিক মাপকাঠিতে অ্যান্টিবডি’র সংখ্যা ‘১০-১০০০ আই-ইউ’ হলে তাকে ধরা হয় সুরক্ষিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার মাধ্যমে ‘অ্যান্টিবডি কাউন্ট’ পৌঁছাতে পারে ৩০০ পর্যন্ত। তবে শুধুই সংখ্যার হিসেবে সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়াও সম্ভব নয়।

যেমন, সুরক্ষা দেওয়া মতো পর্যাপ্ত ‘অ্যান্টিবডি’ থাকার পরও ভিন্ন কোনো জটিলতার কারণে সেই ‘অ্যান্টিবডি’ নিষ্ক্রিয় থেকে যেতে পারে।

যারা ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে।

বিরল ঘটনা হলেও ‘অ্যান্টিবডি’র উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়ার কারণেও এমনটা হতে পারে।

তাই বলে টিকা যে কাজ করছে না তা কিন্তু নয়। অপরদিকে ‘অ্যান্টিবডি কাউন্ট’ বেশি হলেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অর্থাৎ ‘অ্যান্টিবডি’র মাত্রা যেমনই হোক না কেনো টিকা যে সবাইকে সমান সুরক্ষা দেবে সেকথা বলা যায় না।

তাহলে পরীক্ষা করাবেন না-কি করাবেন না?

আপাতদৃষ্টিতে পরীক্ষা করানোকে জরুরি মনে হতে পারে। তবে না করলে যে কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে তাও নয়।

চিচিকৎসক কোনো বিশেষ কারণে ‘অ্যান্টিবডি টেস্ট’ করতে না দিলে টিকা নেওয়া আগে কিংবা পরে ওই পরীক্ষা করানো জরুরি কিছু নয়। আর পরীক্ষার ফল পাওয়া পর এটাও মাথায় রাখতে হবে যে তা শতভাগ নিশ্চিত নয়।

কারণ জনসাধারণের জন্য যে পরীক্ষাগুলো করা হয় তা বর্তমান করোনাভাইরাসের টিকা সৃষ্ট ‘অ্যান্টিবডি’ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে না। আর এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে টিকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল হবে।