Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

বিডিনিউজডেস্ক.কম | তারিখঃ ১২.০২.২০১৯

ব্যবসা সম্প্রসারণে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে

সে টাকায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। সাধারণত প্রকল্পভেদে ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারে না কোম্পানিগুলো। এমনকি ২ বছরের প্রকল্প ৪ কিংবা ৫ বছরেও শেষ করতে না পারার উদাহরণ রয়েছে। এর বিপরীতে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে এমন উদাহরণ হাতে গোনা।

গত বছরের জুলাইতে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় বসুন্ধরা পেপার। কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ২০০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন বাবদ ১৩৫ কোটি, ব্যাংকঋণ পরিশোধ বাবদ ৬০ কোটি এবং বাকি ৫ কোটি টাকা আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে খরচ করার কথা ছিল তাদের। এজন্য সময়সীমা নির্ধারিত ছিল ২০২০ সালের ৩ জুন পর্যন্ত। তবে কোম্পানিটি নির্ধারিত সময়ের ১৬ মাস আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করে গতকাল থেকে চতুর্থ ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বসুন্ধরা পেপার মিলস বিনিয়োগকারীদের জানায়, আইপিও তহবিলের শতভাগ ব্যবহার করে তারা কারখানায় ইউরোপের অত্যাধুনিক টিস্যু মেশিন স্থাপনের কাজ শেষ করেছে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে কোম্পানিটি। এর ফলে বছরে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ হাজার টন বাড়বে। পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্যও বাড়বে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে বছরে ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি ৩৬ কোটি টাকা করপরবর্তী মুনাফা অর্জনে সক্ষম হবে কোম্পানিটি। নতুন টিস্যু মেশিন স্থাপনের আগে বসুন্ধরা পেপারের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০ টন।

জানতে চাইলে বসুন্ধরা পেপার মিলসের নির্বাহী পরিচালক ও কোম্পানি সচিব এম নাসিমুল হাই বলেন, আইপিওর টাকা হাতে পাওয়ার আগেই আমরা নতুন ইউনিটের কাজ শুরু করেছি। আর আইপিওর টাকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি ও কারখানায় স্থাপনের কাজ শুরু করি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, টিস্যুর বাজারে আমরাই মার্কেট লিডার। প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য হারে এ বাজার বাড়ছে। ফলে ক্রমবর্ধমান বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার কোনো বিকল্প ছিল না। অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনামাফিক সব কাজ শেষ করতে পেরে আমরা সন্তুস্ট।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, বসুন্ধরা পেপারের বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকায়, যা এর আগের হিসাব বছরে ছিল ১ হাজার কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির করপরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৬৯ কোটি টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ৩৮ কোটি টাকায়। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৬৩ পয়সা, যা এর আগের বছরে ছিল ২ টাকা ৬১ পয়সা।

প্রসঙ্গত, আইপিওর মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে ২০১৬ সালের ৩০ জুন রোড শোর আয়োজন করে বসুন্ধরা পেপার। রোড শোর এক বছরেরও বেশি সময় পরে ২০১৭ সালের আগস্টে কাট অফ প্রাইস নির্ধারণের জন্য বিডিংয়ের অনুমোদন পায় কোম্পানিটি। বিডিংয়ে শেয়ারপ্রতি ৮০ টাকা কাট অফ প্রাইস (প্রান্তসীমা) নির্ধারণ করে ইলিজিবল ইনভেস্টররা (ইআই)। এর মধ্যে কাট অফ প্রাইস বা ৮০ টাকা দরে মোট শেয়ারের ৬০ শতাংশ বা ১ কোটি ৫৬ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার ইআইদের কাছে ১২৫ কোটি টাকায় ইস্যু করা হয়। আর বাকি ৪০ শতাংশ বা ১ কোটি ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার কাট অফ প্রাইসের ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট প্রাইসে অর্থাৎ ৭২ টাকায় আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৫ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়।