মুদ্রণ

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ১৪.০২.২০১৯

শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (এসপিসিএল) উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার ক্রয় ও সংরক্ষণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার

দায়ে দুই ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এর আগে ২০১৫ সালের জুনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন। সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধরা কমিশনে রিভিউ আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ জরিমানার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোলাম মোস্তফা (এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেসের বিনিয়োগকারী), নাজমা আক্তার লতা (ভিশন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের বিনিয়োগকারী) ও স্টার শেয়ারবাজার লিমিটেড (প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজের করপোরেট বিনিয়োগকারী) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শাহজিবাজার পাওয়ারের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার ক্রয় ও তা সংরক্ষণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বৃদ্ধিতে অবদান রাখে, যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর সেকশন ১৭(ই)(ভি)-এর পরিপন্থী। সিকিউরিটিজ আইনের বিধিবিধান লঙ্ঘনের জন্য আলোচ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগে ৫৪৬তম কমিশন সভায় শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের রিভিউ আবেদনের ভিত্তিতে কমিশন স্টার শেয়ারবাজার লিমিটেডকে ১ কোটি, গোলাম মোস্তফাকে ৮০ লাখ ও নাসিমা আক্তার লতাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৫ সালের ২ জুন অনুষ্ঠিত ৫৪৬তম কমিশন সভায় বিও হিসাব-সংক্রান্ত বিষয়ে বিএসইসিকে মিথ্যা তথ্য প্রদান করায় আবুল কালাম ইয়াজদানী (সিইও, প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ) এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শাহজিবাজার পাওয়ারের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার ক্রয় ও তা সংরক্ষণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোম্পানিটির শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে অবদান রাখার দায়ে আবুল কালাম ইয়াজদানী, গোলাম মোস্তফা, নাসিমা আক্তার লতা ও স্টার শেয়ারবাজার লিমিটেডের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন শুরু হয়। প্রথম দিনে শেয়ারটি ৩৫ টাকা দরে লেনদন হলেও মাত্র চার মাসের ব্যবধানে এর দর ৩৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়ায়। শেয়ারটির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সে বছরের ৪ আগস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। এর পরও কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ৩১ আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত এর লেনদেন স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ৯ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় শাহজিবাজার পাওয়ারের লেনদেন সম্পর্কিত তথ্য খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। পাশাপাশি সে সময় কোম্পানিটির শেয়ার স্পট মার্কেটে লেনদেনের নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রথম দফায় গঠিত তদন্ত কমিটি এসপিসিএলের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির নেপথ্যে কোম্পানিটির ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখানোর প্রমাণ পায়। এ কারণে সে সময় এসপিসিএলের সহযোগী কোম্পানি পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারির পাঁচ পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মোট ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। পাশাপাশি শাহজিবাজার পাওয়ারের প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে (সিএফও) ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

দ্বিতীয় দফায় তদন্তে এসপিসিএলের অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক এবং তাদের গ্রাহকদের কারসাজিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায় কমিশন। এ কারণে সে সময় প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজকে আড়াই কোটি, পিএফআই সিকিউরিটিজকে দেড় কোটি, প্রাইম ফিন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টকে ২০ লাখ, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেসকে ১ লাখ, শার্প সিকিউরিটিজকে ২ লাখ, বিএলআই ক্যাপিটালকে ১ লাখ, গেটকো টেলিকমিউনিকেশনকে ৫ লাখ ও লিবরা ট্রেডিং করপোরেশনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন। পাশাপাশি শার্প সিকিউরিটিজ, ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্ট ও প্রাইম ফিন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের গ্রাহক গোলাম মহিউদ্দিন নামে এক বিনিয়োগকারীকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং পিএফআই সিকিউরিটিজের গ্রাহক ড. মো. আমজাদ হোসেন ফকিরকে সতর্ক করে কমিশন।