Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২১.০২.২০১৯

পুঁজিবাজারের ৯ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির দায়ে কমার্স ব্যাংকের সিএফও এর ব্রোকারেজ সাবসিডিয়ারির

তত্কালীন এভিপি, দুটি কোম্পানির সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিচালক, বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা জরিমানা ও সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৬৭৬তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যে ৯ কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মুন্নু জুট স্টাফলার্স, মুন্নু সিরামিক, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্টাইল ক্র্যাফট ও রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজারের অস্বাভাবিক লেনদেন ও কারসাজি শনাক্তের জন্য কমিশন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে একটি কমিটি কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজে সংঘটিত অনিয়ম ও কারসাজি এবং আরেক কমিটি মুন্নু জুট স্টাফলার্স, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস ও আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেনে অনিয়ম ও কারসাজির বিষয়টি তদন্ত করে।

এর মধ্যে কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজে সংঘটিত অনিয়ম ও কারসাজি তদন্তে দেখা যায়, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, মুন্নু সিরামিক, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, বাংলাদেশ অটোকারস, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের শেয়ার লেনদেন ও অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে ব্রোকারেজটি। এজন্য কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজের তত্কালীন এভিপি সাইফুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ও হেড অব ইনভেস্টমেন্ট মো. আব্দুল হালিমকে ২৫ লাখ, ব্যাংকটি ভিপি ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ২৫ লাখ, সিকিউরিটিজটির বিনিয়োগকারী মো. আলী মনসুরকে ৫০ লাখ, আবদুল কাউয়ূম ৫ লাখ, মরিয়ম নেছা ৫ লাখ, লিপিকা সাহাকে ২ লাখ, মুকুল কুমার সাহাকে ১ লাখ, পদ্মা গ্লাস লিমিটেডকে ৫ লাখ, মেসার্স কাইয়ূম অ্যান্ড সন্সকে ৫ লাখ ও রহমত মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই ইস্যুতে ইয়াকুত জাহান ও পদ্মা ক্যানস অ্যান্ড কালার্স লিমিটেড ইউনিট-২কে সতর্কপত্র ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

কমিশনের তদন্ত কমিটি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তকালে নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও তাদের আত্মীয়দের নিজ কোম্পানির পাশাপাশি মুন্নু সিরামিকের শেয়ার লেনদেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়। এ কারণে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মোস্তফা হেলাল কবীরকে ১০ লাখ টাকা, তার স্ত্রী ফউজিয়া ইয়াসমিনকে ১০ লাখ ও বিনিয়োগকারী কাজি মো. শাহাদাত হোসেনকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই ইস্যুতে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক ইমাদ উদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, সহকারী মহাব্যবস্থাপক তাইজুদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার সৈয়দ মো. আকবরসহ তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী হাফেজা খাতুন, মবিউর রহমান সরকার ও প্রতিষ্ঠান অহনা কন্সট্রাকশনকে সতর্কপত্র ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

স্টাইল ক্র্যাফটের শেয়ার লেনদেনে অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সচিব ইডমন গুডাকে ২ লাখ ও বিনিয়োগকারী মো. মাহামুদুজ্জামানকে ২ লাখ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই ইস্যুতে স্টাইল ক্র্যাফটের পরিচালক মাহিন রাব্বানী ও তাহমিনা রাব্বানী, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাক হোসেনসহ সামসুল আলম, অসীম কুমার নাগ, সাবা নাগ ও সোমা নাগকে সতর্কপত্র ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

মুন্নু জুট স্টাফলার্সের শেয়ার লেনদেনে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে কোম্পানিটির ডেপুটি ম্যানেজার আতাউর রহমানকে সতর্ক করার পাশাপাশি সাইফ উল্লাহকে ১০ লাখ টাকা, মো. আব্দুস সেলিমকে ৫ লাখ ও মো. জিয়াউল করিমকে ৫ লাখ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

তাছাড়া রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে অনিয়মের দায়ে বিনিয়োগকারী এএস শহিদুল হক, মো. মিজানুর রহমান ও মো. আব্দুল ওহাব ভূঁইয়াকে সতর্কপত্র ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।