Nabodhara Real Estate Ltd.

Khan Air Travels

Bangadesh Manobadhikar Foundation

বিডিনিউজডেস্ক.কম| তারিখঃ ২২.০৭.২০১৯

 

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে সূচকের ব্যাপক পতন ঘটছে।

এতে সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি নেমে এসেছে। তবে এর মধ্যেও বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে ওঠানামা করেছে। এসব কোম্পানির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক এ ওঠানামায় কারসাজি হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে কমিটিতে যে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির ক্যাপিটাল ইস্যু ও ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সার্ভিল্যান্স বিভাগের উপপরিচালক মো. অহিদুল ইসলাম, এসআরএমআইসি বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও ক্যাপিটাল ইস্যু বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ রাকিবুর রহমান।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক ওঠানামা কমিশনের নজরে এসেছে। বিষয়টি আরো গভীরভাবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বিক বিষয়টি তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।

বাজার: গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল সূচক ডিএসইএক্সে ব্যাপক পতন হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনও। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মূল সূচক সিএসসিএক্স কমেছে।

গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ৯৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ১৩০ পয়েন্ট।

ডিএসইর প্রধান সূচকের পাশাপাশি গতকাল ৩০ দশমিক ১৫ পয়েন্ট কমে ব্লু চিপ সূচক ডিএস-৩০ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে। অন্যদিকে ১৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমেছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস। গতকাল ১ হাজার ১৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে সূচকটি।

ডিএসইতে গতকাল মোট লেনদেন হয়েছে ৩৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩৯৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। গতকাল ডিএসইতে মোট ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৯টি শেয়ার ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৭ বার হাতবদল হয়। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬১টির, কমেছে ২৭৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৮টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গেল সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের ১৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। মোট লেনদেনের ১১ শতাংশ করে দখলে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১০ শতাংশ দখলে নিয়ে তৃতীয় স্থানে প্রকৌশল খাত। বস্ত্র এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ যৌথভাবে দখলে নিয়েছে মোট লেনদেনের ৯ শতাংশ করে।

দেশের আরেক শেয়ারবাজার সিএসইতেও সূচক কমেছে। গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বা ১৮৫ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক সিএসই ৩০ ইনডেক্স ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ২৪৪ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৭০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে গতকাল লেনদেনে মোট ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৮৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪২টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ২৩১টি আর অপরিবর্তিত ছিল ১১টির বাজারদর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। এ সংকটের কারণে বাজার পড়ছে। এছাড়া আমাদের বাজারে গভীরতা কম। দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য ভালো কোম্পানির উপস্থিতি কম। তাই এখন বাজারে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই।